বাস্তুতন্ত্র কাকে বলে?
কোনো একটি নির্দিষ্ট বসতি অঞ্চলে পরিবেশের জড় উপাদানের সঙ্গে সজীব উপাদানের (জীবগােষ্ঠীর) এবং সজীব উপাদানগুলির পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ায় যেবসবাসরীতি গড়ে ওঠে, তাকে বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম বলে।
বাস্তুতন্ত্র ও কমিউনিটির সম্পর্ক কী?
বিজ্ঞানী আর্থার টান্সলে কমিউনিটি ও বাস্তুতন্ত্রের সম্পর্ক সরলভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যে সজীব কমিউনিটি ও জড় ভৌত বসতি মিলে বাস্তুতন্ত্র গঠন করে। অর্থাৎ, বাস্তুতন্ত্র = কমিউনিটি + ভৌত বসতি। উল্লেখ্য, পরিবেশের অজীবীয় শর্তপুলি মিলে ভৌত বসতি তৈরি করে।
বাস্তুতন্ত্র কয় প্রকার ও কী কী?
বাস্তুতন্ত্র দুই প্রকার। যথা—
1. প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র : প্রকৃতিতে স্বাভাবিক নিয়মে সৃষ্ট বাস্তুতন্ত্রকে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বলে | এটি দুই প্রকার
a. স্থলজ বাস্তুতন্ত্র: স্থলভাগে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র। যেমন—একটি বনের বাস্তুতন্ত্র।
b. জলজ বাস্তুতন্ত্র: জলভাগে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র। যেমন একটি পুকুরের বা নদীর বা সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র।
2. কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র বা মনুষ্যসৃষ্ট বাস্তুতন্ত্র: মানুষ নিজ প্রয়ােজনে যে কৃত্রিম বাস্তুতান্ত্রিক অবস্থা তৈরি করে তাকে কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র বলে। যেমন—আকোয়ারিয়াম, বাগান, শস্যক্ষেত্রের বাস্তুতন্ত্র।
বাস্তুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রক শর্তগুলি কী কী ?
বাস্তুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রক শর্তগুলিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যঘা—
1. অজীবীয় শর্ত: সৌরশক্তি, তাপমাত্রা, জল, ভূপ্রাকৃতিক গঠন প্রভৃতি হল বাস্তুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রক অজীবীয় শর্ত।
2. জীবজ শর্ত: উৎপাদক, খাদক এবং বিয়ােজক হল বাস্তুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রক জীবজ শর্ত।
একটি বাস্তুতন্ত্রে সূর্য না থাকলে কী হত?
বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত শক্তির উৎস হল সূর্য। সূর্য না থাকলে সবুজ উদ্ভিদ সালােকসংশ্লেষ করতে পারত না। এর ফলে বায়ুতন্ত্রে কোনােরকম শক্তি প্রবেশ করতে পারত না ও খাদ্যশৃঙ্খল বিনষ্ট হত। অর্থাৎ, বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হত।
পুষ্টিস্তর বা ট্রফিক লেভেল কাকে বলে ? অথবা, বাস্তুতন্ত্রের স্তরগুলির নাম লেখাে।
কোনাে বাস্তুরীতির খাদ্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত পুষ্টির ক্রমপর্যায় অনুযায়ী বা খাদ্যের জোগান অনুযায়ী প্রত্যেক স্তরকে পুষ্টিস্তর বাট্রফিক লেভেল বলে।
যথা— 1. উৎপাদক আর (ঘাস), 2. প্রাথমিক খাদ্য (কীটপতঙ্গ), 3. গৌণ খাদক (ব্যাং), প্রগোণ খাদক (সাপ) 5. সর্বোচ্চখাদক (ময়ূর)।
উৎপাদক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উৎপাদক: যেসব জীব নিজেদের খাদ্য নিজেরাই প্রস্তুত করতে সক্ষম, তাদের উৎপাদক বলে।
উদাহরণ: বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক হল প্রধানত সবুজ উদ্ভিদ। এ ছাড়াও কিছু বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে।
বাস্তুতন্ত্রে সকল উৎপাদক বিনাশ পেলে কী হবে?
যেসব জীব নিজেদের খাদ্য নিজেরাই প্রস্তুত করতে সক্ষম, তাদের উৎপাদক বলে। বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক হল সবুজ উদ্ভিদ। কোনাে একটি বাস্তুতন্ত্রের সকল উৎপাদক বিনাশ পেলে বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া অর্থাৎ সালােকসংশ্লেষ স্তব্ধ হয়ে যাবে। উৎপাদকের অনুপস্থিতিতে শাকাশী প্রাণীগুলি খাদ্যের অভাবে মারা যাবে এবং এদের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য জীবদ্গুলি, পুষ্টিস্তর অনুযায়ী একে একে বিনষ্ট হবে| শেষে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রটিরই বিনাশ ঘটবে।
উদ্ভিদকে ট্রান্সডিউসার বলে কেন?
ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে ট্রান্সডিউসার শব্দের অর্থ হল যে একপ্রকার শক্তিকে অন্য প্রকার শক্তিতে পরিবর্তন করতে পারে। অনুরূপে, স্বভােজী উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে খাদ্য সংশ্লেষের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিরূপে পরিবর্তিত করে দেহে আবদ্ধ করে। তাই স্বভােজী উদ্ভিদকে ট্রান্সডিউসার বলা হয়।
বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদকের ভূমিকা উল্লেখ করাে।
উৎপাদকরা সৌরশক্তি শােষণ করে অজৈব উপাদানের সাহায্যে খাদ্যসংশ্লেষ করে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে বিভিন্ন পুষ্টিস্তরে খাদ্য তথা শক্তির জোগান দেয়। ফলে, বাস্তুতন্ত্রের শক্তি প্রবাহ বজায় থাকে ও বাস্তুতন্ত্র সচল থাকে। অর্থাৎ, বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহে উৎপদিকগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
খাদক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
খাদক: বাস্তুতন্ত্রে যেসমনস্ত জীব খাদ্য উৎপাদনে অক্ষম এবং খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে উৎপাদকের ওপর নির্ভর করে, তাদের খাদক বলে। » উদাহরণ: গােরু,হরিশ বাঘ, সিংহ, মানুষ প্রভৃতি সমস্ত প্রাণী খাদকের উদাহরণ।
বিয়ােজক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
বিয়ােজক: যেসব জীব মৃত জীবদেহ অথবা জৈব রেচন বা বর্জ্য বস্তু (যেমন—মল-মূত্র)জটিল বস্তুর বিশ্লেষণ করে সরল জৈব বস্তু উৎপন্ন করে এবং তা থেকে পুষ্টি লাভ করে, তাদের বিয়ােজক বলে। » উদাহরণ: আণুবীক্ষনিক ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া বিয়ােজকের উদাহরন।
বাস্তুতন্ত্রে বিয়ােজকের ভূমিকা কী ?
বাস্তুতন্ত্রে বিয়ােজকের ভূমিকাগুলি হল—
1. পুষ্টি উপাদানের জোগান: বিয়ােজক মৃত উৎপাদক ও খাদকের দেহকে এবং জৈব বস্তু থেকে পুষ্টিগ্রহণ করে। পুষ্টি সংগ্রহের সময় ওই মৃত জৈব উপাদানকে ভেঙ্গে সরল পুষ্টি উপাদানে পরিণত করে। পরবর্তীকালে উদ্ভিদ মাটি থেকে সেই সরল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে। ফলে বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টি উপাদানের জোগান বজায় থাকে।
2. পরিবেশ রক্ষণ: মৃত জীবদেহকে বিয়ােজিত করে তা মাটিতে মিশিয়ে দেয়, ফলে পরিবেশদূষণ ঘটে না।
বিয়ােজককে রূপান্তরক বা ট্রান্সফরমার বলে কেন?
বিয়ােজক মৃত জৈব বস্তু থেকে জটিল জৈব উপাদান, যেমন জটিল শর্করা, বৃহৎ প্রােটিন ও ফ্যাট অপুকে বিষ্টি করে সরলতর উপাদানে পরিণত করে। তা ছাড়া জৈব উপাদানে আবদ্ধ খনিজেরও এরা মুক্তি ঘটায়। এইভাবে জটিল জৈব উপাদানকে সরল জৈব ও অজৈব উপাদানে পরিবর্তন করে তাদের পরিবেশে ফিরিয়ে দেয় বলে বিয়ােজককে রূপান্তরক বা ট্রান্সফরমার বল।
বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক ও বিয়ােজকের মধ্যে সম্পর্ক কী ?
বিয়ােজক উৎপাদকের মৃতদেহ ও তাদের দেহাংশ বিয়ােজিত করে পুষ্টি লাভ করে জটিল উপাদান থেকে সরল অজৈব উপাদান মুক্ত করে। ফলে উৎপাদকের খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়ােজনীয় অজৈব উপাদানগুলি বাস্তুতন্ত্রে ফিরে আসে ও তা উৎপাদক পুনরায় ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য বিয়োজক ও উৎপাদক পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।
প্ল্যা্কটন কী? পেল্যাজিক প্রাণী কাকে বলে ?
প্ল্যাকটন: জলে ভাসমান আপুবীক্ষণিক জীবকে প্ল্যাকটন বলে। যেমন—ফাইটোপ্লাঙ্কটন (উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটন) এবং জুপ্ল্যাঙ্কটন (প্রাণী প্ল্যাকটন)।
পেল্যাজিক প্রাণী : জলের ওপরের তলে বসবাসকারী প্রাণীদের পেল্যাজিক প্রাণী বলে। যেমন—বিভিন্ন মশার লার্ভা।
নেকটন কী? বেনথস কাকে বলে?
নেকটন : যেসব জীব স্বাধীনভাবে জলে সাঁতার কাটে, তাদের নেকটন বলে। যেমন—মাছ, তিমি ইত্যাদি প্রাণী।
বেনথস: যেসব প্রাণী জলের নীচের তলে বসবাস করে, তাদের বেনথস বলে। যেমন শামুক, প্রবাল ইত্যাদি প্রাপী।
