পরিবেশ কাকে বলে?
আমাদের আশেপাশের উদ্ভিদ, প্রাণী প্রভৃতি সজীব উপাদান এবং জল, আলাে, বাতাস, মাটি প্রভৃতি নির্জীব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত পরিমণ্ডল, যা আমাদের দেহ ও মনকে প্রভাবিত করে, তাকে পরিবেশ বলে।
ইকোলজি বা বাস্তুবিদ্যার সংজ্ঞা দাও।
জীববিদ্যার যে শাখায় জীব এবং তার পারিপার্শ্বিক জড় পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক আলােচিত হয়, তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।
বাস্তুবিদ্যায় বিভিন্ন জীবের মধ্যে আন্তঃক্রিয়া ও তাদের সংগঠন কোন কোন্ ধাপের সাহায্যে অধ্যয়ন করা হয় ?
বাস্তুবিদ্যায় বিভিন্ন জীবের মধ্যে আন্তঃক্রিয়া অধ্যয়নের ধাপগুলি হল— একক জীবস্তর, পপুলেশন স্তর, কমিউনিটি স্তর এবং বাস্তুতান্ত্রিক স্তর।
ফ্লোরা ও ফনা কী?
ফ্লোরা : কোনাে স্থানের সমগ্র উদ্ভিদগােষ্ঠীকে ফ্লোরা বলা হয়।
ফনা : কোনাে স্থানের সমগ্র প্রাণীগােষ্ঠীকে ফনা বলা হয়।
আলােক পর্যাবৃত্তি বলতে কী বােঝ?
জীবদেহের বিভিন্ন জৈবনিক প্রক্রিয়ার দৈনিক দিবা দৈর্ঘ্যের (দৈনিক কতক্ষণ আলােথাকে) দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ঘটনাকে আলােক পর্যাবৃত্তি বলে। যেমন—কিছু উদ্ভিদের ফুল ফোটা, দৈনিক দিবা দৈর্ঘ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়।
হেলিওফাইট কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব উদ্ভিদ উজ্জ্বল আলােয় বসবাস করে তাদের হেলিওফাইটস্ বা সান প্ল্যান্ট বা আলােক অভিযােজিত উদ্ভিদ বলে। যেমন গোলাপ, সূর্যমুখী, আখ প্রভৃতি।
সিওফাইটস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব উদ্ভিদ স্বল্প আলােযুক্ত স্থানে অথবা ছায়াযুক্ত স্থানে বসবাস করে, তাদের সিওফাইটস্ বা শেড প্ল্যান্ট বা ছায়া অভিযােজিত উদ্ভিদ বলে| এদের নাম ফোটোফোবাস উদ্ভিদ | যেমন—কচু, মস প্রভৃতি।
আলাে কীভাবে প্রাণীদের বেঁচে থাকাকে প্রভাবিত করে?
আলাের সাহায্যে বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদক অর্থাৎ, সবুজ উদ্ভিদেরা সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করে। এই খাদ্যই খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রাণীরা গ্রহণ করে থাকে। এভাবেই আলাে প্রাণীদের বেঁচে থাকাকে প্রভাবিত করে।
অভিযােজন কাকে বলে?
পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য কোনাে জীবের গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় এবং আচরণগত স্থায়ী পরিবর্তনকে অভিযােজন বলে।
সিওফাইটের অভিযােজনগুলি লেখাে।
সিওফাইটের অভিযােজনগুলি হল— 1. এদের পাতাগুলি পাতলা ও বড়াে হয় ও পাতায় ক্লোরােফিল ঘনত্ব বেশি থাকে। ফলে কম আলােতেও সালােকসংশ্লেষ বেশি করতে পারে। 2. লেন্স আকৃতির এপিডারমাল কোশ থাকে যা আলােকে মেসােফিল কলায় আপতিত করে।
আলােকপ্রেমী উদ্ভিদ বা হেলিওফাইটের অভিযােজনগুলি লেখাে।
আলােকপ্রেমী বা হেলিওফাইটের অভিযােজনগুলি হল -
1. আলাের ক্ষতি থেকে বাঁচতে এদের পাতাগুলি ছােটো হয়।
2. পাতায় রােম ও মােমের (কিউটিকল) আস্তরণ থাকে।
3. পর্বমধ্য ছােটো ও সংবহন কলা সুগঠিত হয়।
দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ ও হ্রস্ব দিবা উদ্ভিদ কাকে বলে ?
* দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ বা LDP (Long day plant): নির্দিষ্ট সময়কালের বেশি আলাে থাকলে যে উক্তিদে ফুল ফোটে তাকে দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ বলে। যেমন—সরষে, মুলাে, ভুট্টা, গম, পালং প্রভৃতি।
* হ্রস্ব দিবা উদ্ভিদ বা SDP (Short day plant) : নির্দিষ্ট সময়কালের থেকে কম সময় আলাে থাকলে যে উদ্ভিদে ফুল ফোটে তাদের স্ব দিবা উদ্ভিদ বলে। যেমন—ধুতরাে, তামাক, সােয়াবিন।
হাইড্রোফাইট বা জলে অভিযােজিত উদ্ভিদের অভিযােজন লেখাে।
হাইড্রোফাইট বা জলে অভিযােজিত উদ্ভিদদের অভিযােজনগুলি হল— 1. কাণ্ড অধিকাংশক্ষেত্রেই নরম, গ্রন্থিকাণ্ডজাতীয়, স্পঞ্জের মতােবাতাবকাশ যুক্ত। 2. পত্রবৃন্ত বাতাবকাশবিশিষ্ট হয়,যা পাতাকে ভাসতে সাহায্য করে। 3. বীজত্বক কঠিন হয় ও বীজের অঙ্কুরােদ্গম ক্ষমতা অনেক বেশি হয়।
এস্টিভেশন ও হাইবারনেশন বলতে কী বােঝ?
প্রচণ্ড গরমে কিছু প্রাণী গভীর গর্তে মধ্যে ঢুকে যায়, একে প্রীষ্ম ঘুম বা এস্টিভেশন বলে। শীতকালে শীতল রক্তের প্রাণীরা গর্তে ঢুকে নিস্তেজ অবস্থায় শীত অতিক্রম করে, একে শীত ঘুম বা হাইবারনেশন বলে।
জেরােফাইট উদ্ভিদের পাতা ও মূলের অভিযােজনগত বৈশিষ্টগুলি লেখাে।
পাতার অভিযােজন: পাতাগুলি (এবং কাণ্ড) পুরু কিউটিক্ল দ্বারা আবৃত থাকে, ফলে শুক মরু পরিবেশে জল দেহ থেকে নির্গত হতে পারে না। পাতাগুলি অনেকক্ষেত্রে ছােটো হয় বা তা কাঁটায় পরিবর্তিত হয়। ফলে জল দেহ থেকে বাষ্পমোচন দ্বারা অনেক কম নিগত হয়।
মূলের অভিযােজন: মূলতন্ত্র সুগঠিত হয় ও তা অনেক গভীর অবধি প্রথিত থাকে।ফলে মাটির অনেক নীচেথাকা জলও উদ্ভিদ শােষণ করতে পারে।
হ্যালােফাইট উদ্ভিদের দুটি অভিযােজনগত বৈশিষ্ট্য লেখাে।
হ্যালােফাইটের অভিযােজনগত বৈশিষ্ট্-
1. কিউটিকল আবরণ: জলের বাষ্পমােল রােধে পাতায় পুরু কিউটিকল আবরণ থাকে।
2. নিউম্যাটোফোর বা শ্বাসমূল: মাটিতে অক্সিজেন মাত্রা কম বলে এরা শ্বাসমূল দ্বারা বায়ু থেকে গ্যাস গ্রহণ করে।
উন্নতার ওপর নির্ভর করে উদ্ভিদ কয় প্রকার ও কী কী?
পৃথিবীর উন্নতা ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে হ্রাস পায়। সেই অনুযায়ী উদ্ভিদের নাম নানাপ্রকার হয়। যথা
1. মেগাথার্ম: ক্লান্তীয় উ্ন অঙ্কলের উদ্ভিদ। যেমন-মর উদ্ভিদ।
2. মেসােথার্ম : অধঃক্লান্তীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ, যেখানে গ্রীম্ম ও শীতকাল উভয় পরপর দেখা যায়। যেমন ক্রান্তীয় পর্ণমােচী উদ্ভিদ ও জলজ উদ্ভিদ।
3. মাইক্রোথার্ম : পাহাড়ি শীতল জলবায়ু অঙ্কুলের উদ্ভিদ। যেমন-কনিফেরাস ফরেস্ট।
4. হেকিস্টোথার্ম: মেরু অঞ্চলের উদ্ভিদ যারা তীব্র ঠান্ডায় বেঁচে থাকে। যেমন—আম্লীয় উদ্ভিদ।
তাপমাত্রা সহনশীলতা অনুযায়ী জীব কয় প্রকার ও কী কী?
পরিপার্শ্বের তাপমাত্রা সহনশীলতা অনুযায়ী জীব দুই প্রকার। যেমন - ইউরিথার্মাল জীব: যেসব জীব অধিক তাপমাত্রা বিস্তার সহ্য করতে সক্ষম হয়, যেমন-অধিকাংশ স্তন্যপায়ী ও পাখি।
স্টেনােথা্মাল জীব : যেসব জীব স্বল্প তাপমাত্রা পরিবর্তন সহ্য করতে পারে, যেমন—মেরু ভালুক, সরীসৃপ, অ্যাম্ফিবিয়া, নারকেল গাছ ইত্যাদি।
ইকোজিওগ্রাফির নিয়ম বা বাস্তু-ভূগােলের নীতি কী?
ভৌগােলিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে (যেমন—কম বা বেশি উন্নতা) জীবের আকার-আকৃতির বিভিন্নতার নিয়মগুলিকে বলে ইকোজিওগ্রাফির নিয়ম বা বাস্তু-ভূগােলের নীতি। যেমন—বার্গম্যানের নিয়ম, অ্যালেনের নিয়ম।
বার্গম্যানের নিয়ম কী?
তাপমাত্রা দেহের আকারকে প্রভাবিত করে, এই ঘটনাকে বার্গম্যানের নিয়ম বলে। দেখা গেছে, শীতল অঞ্চলে উপস্থিত স্তন্যপায়ী এবং পাখিরা উয় অস্থলে উপস্থিত স্বজাতিদের থেকে আকারে বড়াে হয়। যেমন-আন্টার্ক- টিকার পেইন (lm) গ্যালাপাগাস দ্বীপের পেঙ্গুইন (0.5m)-এর থেকে আকারে দীর্ঘ হয়। পােলার বিয়ার সাধারণ ভালুকের থেকে আকারে বড়াে হয়।
অ্যালেনের নিয়মটি লেখাে। উদাহরণ দাও।
উন্নশােপিত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে শীতল অঞ্চলের প্রাণীদের প্রান্তীয় দেহাংশ, যেমন—ল্যাজ, কান, পা প্রভৃতি সমগােত্রীয় উয় অঙ্কুলের প্রাণীদের তুলনায় ছােটো হয়। একে অ্যালেনের নিয়ম বলে। এর কারণ ছােটো দেহাংশগুলি তাপ সংরক্ষণ করে (শীতল অঞ্চলে) এবং বৃহৎ দেহাংশগুলি তাপের মুক্তি (উষ্ণ অঞ্চলে) ঘটায়। যেমন আফ্রিকার হাতির কান এশিয়ার হাতির তুলনায় অনেক বড়াে হয়।
