Class 9 Life Science Chapter 5 (জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ) Part 2 Topic 1 (প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের স্থিতিশীল ব্যবহার) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

পূরণশীল বা পুনর্নবীকরণযােগ্য সম্পদ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

পুনর্নবীকরণযােগ্য সম্পদ: যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ সাময়িকভাবে নিঃশেষিত হলেও আপনা-আপনি পূরণ হয়, তাকে পূরণশীল বা পুনর্নবীকরণযােগ্য সম্পদ বলে।

উদাহরণ: বনজ সম্পদ,জলসম্পদ, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি।



অপুরণশীল বা অনবীকরণযােগ্য সম্পদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও। 

অনবীকরণষােগ্য সম্পদ: যেসব প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার সীমিত এবং ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে ক্রমশই ক্ষয়ের মাধ্যমে নিঃশেষিত হয় কিন্তু কোনোভাবেই পূরণ হয় না, তাকে অপূরণশীল বা অনবীকরণযােগ্য সম্পদ বলে। 

 উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল,বিভিন্ন ধাতু ইত্যাদি।



প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার কারণ লেখাে।

প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার কারণঙ্গুলি হল—

1. অধিক জনসংখ্যার কারণে প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন—কয়লা, পেট্রোলিয়াম, বনসম্পদ যথেচ্ছ ব্যবহৃত হচ্ছে। 

2. পরিবেশদূষণের ফলে মাটি, জল প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে |



প্রাকৃতিক সম্পদ কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় ?

প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের উপায়গুলি হল 

1. জনসাধারণের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, 

2. প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে দেশের নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন ও কঠোর প্রয়ােগ, 

2. প্রাকৃতিক সম্পদের বিকল্প ব্যবহার বৃদ্ধি করা।



স্থিতিশীল উন্নয়ন কী?

যে পরিচালন ব্যবস্থায় শিল্প, কৃষি ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও পরিবেশ রক্ষার দ্বারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা হয়, তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে। 



স্থিতিশীল ব্যবহারের প্রয়ােজনীয়তা লেখাে। অথবা, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার দরকারি কন?

পরিবেশের ক্ষতি না করে উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ রেখে যাওয়া বর্তমান প্রজন্মের কর্তব্য। স্থিতিশীল ব্যবহারের মাধ্যমেই প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার সুরক্ষিত করা সন্তান যেমন-কয়লা, পেট্রোলিয়াম প্রভৃতির ব্যবহার হ্রাস করে সৌরশক্তি, জল ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে ওই পুনর্নবীকরণ-অযােগ্য সম্পদগুলি সুরক্ষিত হয়।



অরণ্য বলতে কী বােঝ ?

বন বা অরণ্য বলতে সেই সকল স্বাভাবিক উদ্ভিদের সমাবেশকে বােঝায়, যেগুলি স্থানীয় জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে, জীবজন্তুকে আশ্রয় দেয় ও প্রাকৃতিক বাসস্থান গড়ে তােলে এবং কাঠ, পাতা প্রভতি বনজ সম্পদের উৎসরূপে ব্যবহৃত হয়।



বনজ সম্পদ বলতে কী বােঝ?

বনজ সম্পদ বলতেকনমির নানা প্রজাতির গাছ, বনজ সামাী ও বনের উপজাত দ্রব্যকে বােঝায়। যেমন বনের থেকে পাওয়া কাঠ, আঠা, ফলমূল, পাতা, মােম, মধু ইত্যাদি।



বনকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কেন? অথবা, বনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করাে।

বনজাত বিভিন্ন দ্রব্যাদি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগতভাবে বিশেষভাবে কার্যকরী ও উপযােগী। যেমন- 

1. বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল বন। থেকে পাওয়া যায়। 

2. বন থেকে প্রাপ্ত কাঠ গৃহ নির্মাপের সামগ্রী, আসবাবপত্র, ট্রলার, নৌকা ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

3. মধু, বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ প্রভৃতি পাওয়া যায়। 

4. বন বিভিন্ন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে। এ ছাড়া বন কোনাে অস্কুলের সামগ্রিক জলবায়ু (বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ) ও ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে। এই কারণে বনকে সামগ্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



বনের স্থানীয় ব্যবহার বলতে কী বােঝ? অথবা, বনজ সম্পদের দুটি ব্যবহার লেখাে।

বিভিন্ন বনজ উপাদান স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন - 

1. হােগলা পাতা ঘরের ছাউনি দিতে ব্যবহৃত হয়। 

2.  শালপাতা খাওয়ার থালা তৈরিতে কাজে লাগে। 

3. শাল, সেগুন, মেহগনি, শিরিষ প্রভৃতি গাছের কাঠ আসবাব ও গৃহনির্মাণে ব্যবহৃত হয়। 

4. মধু, মােম ইত্যাদি স্থানীয়ভাবে ব্যবহার হয়। 

5.  গাছের শুকনাে পাতা, গাছের শুকনাে ডাল স্থানীয় মানুষ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে।



বন সংরক্ষণ বলতে কী বােঝ?

বনের গাছপালাকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে ধবংস না করে, সুপরিকল্পিতভাবে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে বনভূমি তথা জীববৈচিত্র্য রক্ষা করাকে বন সংরক্ষণ বলে |



স্থিতিশীল ফরেস্ট্রি (sustainable forestry) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

স্থিতিশীল ফরেস্ট্রি যে পরিচালন ব্যবস্থায় বন থেকে সংগৃহীত প্রায় সমস্ত উপাদান পুনঃস্থাপনে জোর দেওয়া হয় এবং বনজ সম্পদ আরশের সময় প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাকে স্থিতিশীল ফরেস্ট্রি বলে।

উদাহরণঃ শুধুমাত্র পুরােনাে গাছ ব্যবহারের জন্য কাটা, নতুন উদ্ভিদকে বড়াে হতে দেওয়া ও পুরােনো গাছের স্থানে নতুন চারা রােপণ স্থিতিশীল ফরেস্ট্রি এর উদাহরণ।



পানীয় জল বা পেয় জল এবং অপেয় জল কাকে বলে ?

পানীয় জল: যে জল পান করলে আমাদের শরীরের সুস্থতা বজায় থাকে, তাকে পানীয় জল বা পেয় জল বলে।

অপেয় জল: যে জল সাধারণভাবে পানের অনুপযােগী এবং যা পান করলে মানুষের নানারকম রােগব্যাধি বা অসুবিধা দেখা দেয়, তাকে অপেয় জল বলে।



ভৌম জল কাকে বলে?

ভূপৃষ্ঠের নীচে মৃত্তিকা এবং শিলারঞ্জে যে স্বাদু জল অবস্থান করে তাকে ভৌম জল বলে। এর প্রধান উৎস বৃষ্টি ও তুষার গলা জল। এই জল অগভীর কূপ, গভীর কূপ দ্বারা তােলা হয় এবং কৃষি, শিল্প বা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়।



জলের অতিব্যবহার বলতে কী বােঝ?

জীবের জীবনধারণ ও অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য জল অতিপ্রয়ােজনীয়। কিন্তুব্যবহারােপযােগী স্বাদু জলের পরিমাণ সীমিত। বর্তমানে ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পের প্রসার, কৃষি সম্প্রসারণ ইত্যাদির দরুন জলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাদু জলের এই বর্ধিত ব্যবহারকেই জলের অতিব্যবহার বলে।



ভূগর্ভস্থ জলস্তর দ্রুত নেমে যাওয়ার দুটি প্রধান কারণ লেখাে।

ভূগর্ভস্থ জলস্তর দ্রুত নেমে যাওয়ার দুটি প্রধান কারণ হল - 

1. শহরে ঘনবসতি অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জল মানুষের ব্যবহারের জন্য তুলে ফেলা হচ্ছে। 

2. গ্রামাঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে গভীর নলকূপ খনন করে জলসেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।



জলের অপচয়ের দুটি সাধারণ উদাহরণ দাও।

জলের অপচয়ের দুটি সাধারণ উদাহরণ হল 

1. দৈনন্দিন স্নান, বাসনমাজা, কাপড়কাচা ইত্যাদি কাজে প্রায়শই প্রয়ােজনের অতিরিক্ত জল ব্যবহার করা হয়। 

2.  বাড়িতে বা রাস্তায় পুরসভার সরবরাহের জলের কল অযথা খােলা থাকে।



জল সংরক্ষণে তুমি ব্যক্তিস্তরে কী করবে?

জল সংরক্ষণে ব্যক্তিস্তরে যা উচিত তা হল 

1. পুরসভার সরবরাহের জলের কল অযথা যাতে খােলা না থাকে সেইদিকে নজর দেওয়া।

2.  বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা।



বৃষ্টির জল ভূপৃষ্ঠের অন্যান্য জলাশয়ের জলের থেকে নির্মল কেন ?

জলাশয়ের জল থেকে শুধুমাত্র পরিলুদ্ধ জলই বাষ্পীভূত হয়, বিভিন্ন দূষিত পদার্থগুলি জলাশয়ের জলেই থেকে যায়। এই জলীয় বাষ্প মেঘ সৃষ্টি করে বৃষ্টিপাত ঘটায়। সেই কারণে বৃষ্টির জল পুরােপুরি বিশুদ্ধ এবং নির্মল হয়।



ভারতের জলসংকটের দুটি উদাহরণ দাও।

ভারতে জলসংকটের দুটি উদাহরণ হল—

1.  উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লিতে পার্শ্ববর্তী যমুনা নদী একমাত্র পানীয় জলের উৎস | যমুনার জলে প্রতিদিন প্রায় 950 গ্যালন আবর্জনা নিঃক্ষিপ্ত হয়। এই জলে স্বাভাবিক দূষকের প্রায় 1 লক্ষ গুণ বেশি দূষক থাকে। ফলে এই জল পানযােগ্যতা হারাচ্ছে এবং ওই অঞ্চলে জলসংকট দেখা দিচ্ছে। 

2.  মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর শহর, হ্রদের শহর বলে পরিচিত হলেও বর্তমানে এখানে পানীয় জলের তীব্রসংকট দেখা দিয়েছে। মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিকল্পনাবিহীন জল সরবরাহ, জলের অতিব্যবহার এর কারপ।



বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা প্রয়ােজন কেন?

বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা প্রয়ােজনীয় কারণ—

1.  বৃষ্টির জল দূষণমুক্ত ও স্বাদু হয়।

2.  পাহাড়ি অঞ্চল অথবা অন্য যেখানে জলের অভাব, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে সেখানে সহজেই তা ব্যবহার করা যায়।



পশ্চিমবঙ্গের জলের অতিব্যবহারজনিত একটি সমস্যা ব্যাখ্যা করাে।

পশ্চিমবঙ্গে অগভীর টিউবওয়েল ও অগভীর পাম্প বসিয়ে বহুল পরিমাণে ভৌমজল তুলে কৃষিকাজে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মাটির অনেক নীচে অবস্থিত আর্সেনিক স্তর পর্যন্ত জলতল নেমে যায় এবং মাটির নীচের আর্সেনিক জলে দ্রবীভূত হয়ে যায়। এই কারণে এ রাজ্যে ভয়ানক আর্সেনিক দূষণ দেখা দিচ্ছে। আর্সেনিক দূষণে হাত ও পায়ের ত্বকের ক্ষতি, ব্ল্যাকফুট ডিজিজ, এমনকি ক্যানসারও সৃষ্টি হয়।